ষ্টাফ রিপোর্টার,২৬ জুন ২০২৬(বিবিনিউজ):একটি জীবন বাঁচানোর অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হয়েছিল যার পথচলা, আজ তা নিজেই ধুঁকছে অস্তিত্বের সংকটে। ৩০০ কোটি টাকার স্বপ্ন। চার দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। অথচ আজ ধামরাইয়ের এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কমপ্লেক্সটি শুধুই এক নামহীন উপাখ্যান। আধুনিক স্থাপত্যের এই বিশাল কাঠামো এখন মাদকসেবী আর বিষাক্ত সাপের অভয়ারণ্য। চিকিৎসা সেবার বাতিঘর হওয়ার কথা ছিল যার, তা আজ জনমানবহীন এক মৃত্যুপুরী।”
ঢাকার ধামরাই আর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সীমান্ত ঘেঁষা পাইকপাড়া ও ওয়ার্শী গ্রাম। প্রায় ১৬ একর জমির বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল অসমাপ্ত স্থাপত্য। ১৯৮৫ সালে ক্যান্সার জয় করতে না পারা বাবার শেষ ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে, বড় ছেলে খান মোহাম্মদ ইকবাল এখানে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন এক অনন্য মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। উদ্দেশ্য ছিল যেন এই জনপদের মানুষ আর চিকিৎসার অভাবে অকালে প্রাণ না হারায়।
ডাক্তার, নার্স আর শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল, মসজিদ, আর স্নিগ্ধ পুকুর সবই সাজানো ছিল নিখুঁত পরিকল্পনায়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, দীর্ঘ ২০ বছরের কঠোর শ্রমের পর অর্থ ও রাজনৈতিক জটিলতার গোলক ধাঁধায় থমকে দাঁড়ায় নির্মাণকাজ। ২০১৭ সালে মূল উদ্যোক্তা খান মোহাম্মদ ইকবালের প্রয়াণের পর, সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে শুরু করে। আজ পরিত্যক্ত এই কমপ্লেক্সের প্রতিটি ইটে লেগে আছে অযত্ন আর অবহেলার ছাপ।
এখন চার দেয়ালের মাঝে মানুষের গলার স্বরের বদলে শোনা যায় ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। নেশাখোরদের অসামাজিক কর্মকান্ড আর বিষাক্ত সাপের উপদ্রবে সন্ধ্যার পর এই এলাকা দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল করাই দায়।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের হাহাকার এই হাসপাতালটি চালু হলে ধামরাই, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের কয়েক লাখ মানুষের জন্য খুলে যেত উন্নত চিকিৎসার নতুন দুয়ার। কিন্তু সেই দুয়ার কি আদৌ আর খুলবে? প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাসের দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল মামুন ।
তিনশ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ যেন শুধুই ইটের স্তূপে পরিণত না হয়। একটি জনপদের স্বাস্থ্যসেবার এই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে তুলতে চাই কার্যকর উদ্যোগ। নতুন সরকারের কাছে এলাকাবাসীর আকুতি পরিত্যক্ত এই কংক্রিটের খাঁচায় প্রাণ ফিরে আসুক, আলোর মুখ দেখুক দীর্ঘ চার দশকের ঝিমিয়ে পড়া এই মেডিকেল কলেজ।
